ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্কুল মাঠে পচা আলু; দুর্গন্ধে বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্কুল মাঠে পচা আলু; দুর্গন্ধে বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা!

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
স্কুল মাঠে পচা আলু; দুর্গন্ধে বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা! রাজশাহীর তানোরে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল মাঠের আমবাগানে খোলা আকাশের নীচে আলু রাখা হয়। সেই আলু পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

পচা আলুর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ পাশের লোকজন। এতে করে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের চাঔড় নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এমন ঘটনা। দ্রুত পচা আলু সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসি।

সরেজমিন দেখা যায়, তানোর-চৌবাড়িয়া রাস্তা সংলগ্ন চাঔড় নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। মূল রাস্তার মালার মোড় পার হয়ে রাস্তার পূর্ব দিকে স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। স্কুলের সামনের মাঠে এক কোম্পানি জমি থেকে আলু উত্তোলন করে গত ২০/২৫ ধরে ওই স্কুল মাঠে আলু রাখা হয়।
বাছায়ের জন্য ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশে রাখার কারণে আলু পচে চরম দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুলে কোনভাবেই থাকতে পারছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যারা আবার আসছেন তারা দুর্গন্ধে ক্লাস থেকে বের হতে পারছেন না। কারণ স্কুলের সামনেই শতশত মণ আলু পচে আছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে। কিন্তু প্রায় ২০/২৫ দিন ধরে স্কুলের মাঠে ও আম বাগানে প্রচুর পরিমাণ পচা আলু রাখা রয়েছে। সেই সব আলু এমনভাবে পচে গেছে গন্ধে স্কুলে থাকায় কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। আমরা বারবার স্যারদের বলার পরেও সরানো হচ্ছে না পঁচা আলু। কে শোনে কার কথা। রমজান মাস চলছে। অনেক শিক্ষার্থী রোজা থাকেন। এমন আলুর পচা দুগন্ধের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বালিকা স্কুলের পূর্বে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক স্কুল। সেখানেও ছড়িয়ে পড়েছে গন্ধ। বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ ও আম বাগানের পরেই রয়েছে মাদ্রাসা। এক কথায় পচা আলুর দুগন্ধে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পথচারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসের সাথে সাথে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে পচা আলুর দুগন্ধ।

শিক্ষকরা জানান, আমরা একাধিক বার এগ্রিকনসার্নের মালিক শেখ আব্দুল কাদেরসহ অনেককে বলার পরও শুনছেন না তারা। আবার উল্টো আমাদেরকেই হুমকি দিয়ে বলছেন, কোম্পানির মালিক মন্ত্রীর লোক বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে। এই ভয়ে আমরাও কিছু বলতে পারছি না। স্কুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সুলতান আহম্মেদ জানান, ভাড়া দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। পচা আলুর গন্ধে স্কুলে থাকায় কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে এগ্রিকনসার্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আব্দুল কাদের জানান, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দেখা মিলছে না। আমরা তো সারা বছর আলু রাখবো না। পচা আলু সরিয়ে ফেলা হবে। খুব বেশি গন্ধ হয়নি বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ আরও জানান, আমবাগানে ছায়ার তলে জায়গা দেখে তারা বলল অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে। আমিও বলেছি পচা আলুর গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। তারা অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে দুয়েক দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলবে। কিন্তু এখনো সরানো হয়নি। এতে স্কুল খোলা রেখে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্কুল মাঠে পচা আলু; দুর্গন্ধে বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা!

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২

স্কুল মাঠে পচা আলু; দুর্গন্ধে বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা!

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
স্কুল মাঠে পচা আলু; দুর্গন্ধে বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা! রাজশাহীর তানোরে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল মাঠের আমবাগানে খোলা আকাশের নীচে আলু রাখা হয়। সেই আলু পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

পচা আলুর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ পাশের লোকজন। এতে করে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের চাঔড় নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এমন ঘটনা। দ্রুত পচা আলু সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসি।

সরেজমিন দেখা যায়, তানোর-চৌবাড়িয়া রাস্তা সংলগ্ন চাঔড় নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। মূল রাস্তার মালার মোড় পার হয়ে রাস্তার পূর্ব দিকে স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। স্কুলের সামনের মাঠে এক কোম্পানি জমি থেকে আলু উত্তোলন করে গত ২০/২৫ ধরে ওই স্কুল মাঠে আলু রাখা হয়।
বাছায়ের জন্য ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশে রাখার কারণে আলু পচে চরম দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুলে কোনভাবেই থাকতে পারছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যারা আবার আসছেন তারা দুর্গন্ধে ক্লাস থেকে বের হতে পারছেন না। কারণ স্কুলের সামনেই শতশত মণ আলু পচে আছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে। কিন্তু প্রায় ২০/২৫ দিন ধরে স্কুলের মাঠে ও আম বাগানে প্রচুর পরিমাণ পচা আলু রাখা রয়েছে। সেই সব আলু এমনভাবে পচে গেছে গন্ধে স্কুলে থাকায় কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। আমরা বারবার স্যারদের বলার পরেও সরানো হচ্ছে না পঁচা আলু। কে শোনে কার কথা। রমজান মাস চলছে। অনেক শিক্ষার্থী রোজা থাকেন। এমন আলুর পচা দুগন্ধের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বালিকা স্কুলের পূর্বে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক স্কুল। সেখানেও ছড়িয়ে পড়েছে গন্ধ। বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ ও আম বাগানের পরেই রয়েছে মাদ্রাসা। এক কথায় পচা আলুর দুগন্ধে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পথচারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসের সাথে সাথে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে পচা আলুর দুগন্ধ।

শিক্ষকরা জানান, আমরা একাধিক বার এগ্রিকনসার্নের মালিক শেখ আব্দুল কাদেরসহ অনেককে বলার পরও শুনছেন না তারা। আবার উল্টো আমাদেরকেই হুমকি দিয়ে বলছেন, কোম্পানির মালিক মন্ত্রীর লোক বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে। এই ভয়ে আমরাও কিছু বলতে পারছি না। স্কুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সুলতান আহম্মেদ জানান, ভাড়া দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। পচা আলুর গন্ধে স্কুলে থাকায় কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে এগ্রিকনসার্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আব্দুল কাদের জানান, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দেখা মিলছে না। আমরা তো সারা বছর আলু রাখবো না। পচা আলু সরিয়ে ফেলা হবে। খুব বেশি গন্ধ হয়নি বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ আরও জানান, আমবাগানে ছায়ার তলে জায়গা দেখে তারা বলল অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে। আমিও বলেছি পচা আলুর গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। তারা অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে দুয়েক দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলবে। কিন্তু এখনো সরানো হয়নি। এতে স্কুল খোলা রেখে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।