ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা লাঠি বাশিঁ সমিতির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২১ ১৬৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোর প্রতিনিধিঃ
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আবারো ঐক্যবদ্ধ হতে চায় নাটোরের লাঠি বাশিঁ সমিতি। ২২ বছর আগে ১২ নভেম্বর কেন্দ্রিয় সন্ত্রাস চাঁদাবাজ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি নামে জন্ম নেওয়া আলোচিত সংগঠন লাঠিবাশি সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এই ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) রাতে নাটোর শহরের লালবাজার স্বর্নপট্টি এলাকায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কাযার্লয়ে লাঠিবাঁশি সমিতির ব্যানারে ২৫ পাউন্ডের কেক কেটে সংগঠনের ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।
লাঠিবাঁশি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক.মনিমুল হক, মফিউর রহমান দুদু, গিয়াস উদ্দীন পাঠান, সৈকত চৌধুরী, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। বিভিন্ন বক্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, সন্ত্রাস ও চাদাবাজ বিরোধী লাঠিবাঁশি সমিতির মত সংগঠন বর্তমানেও খুবই প্রয়োজন। সন্ত্রাসের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ এবং সামাজিক আন্দোলনে ২২ বছর আগের লাঠি বাঁশি সমিতির প্রয়োজন রয়েছে। তারা বলেন ১৯৯৯ সালের ১২ নভেম্বর এই লাঠিবাঁশি সমিতির জন্ম হয়। সেসময়ে নাটোর ছিল সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের স্বর্গ রাজ্য ছিল। ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন। গড়ে তোলেন কেন্দ্রিয় সন্ত্রাস চাঁদাবাজ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি। যা পরবর্তীতে লাঠিবাঁশি সমিতি নামে পরিচিতি লাভ করে। ব্যবসায়ীরা হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি বাজিয়ে ঐকবদ্ধ্য হয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এই সংগঠনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় সামাজিক আন্দোলন। কিন্তু ওই সময়ের রাজনৈতিক ও স্বাথান্র্বেষী মহলের ঈর্শ্বায় পরিনত হয় সংগঠনটি। ২০০০ সালের ৬ মে সন্ত্রাসীরা স্বয়ংক্রিয়
অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লাঠি-বাঁশি সমিরি স্টেশন বাজার কার্যালয়ে হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মোহন (১৪) নামে কিশোর দোকান কর্মচারী নিহত হয়। ব্যবসায়ীরা সন্ত্রাসীদের করতে গেলে শতাধিক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। মোহনের মৃত্যু সহ ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর নাটোরবাসী ফুঁসে ওঠে। ব্যবসায়ীরা পিছু না হটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। সেসময় সারাদেশের পাশিপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম্যে নাটোরের সাধারণ ব্যবসায়ীদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এই আন্দালন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
দীর্ঘ ২২ বছর পর ২৩ বছরে পদার্পন ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাঠি বাঁশি সমিতির কার্যক্রম আবারো নুতন আঙ্গিকে শুরু করার তাগিদ অনুভব করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার লক্ষে ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সর্বসম্মতক্রমে ব্যবসায়ী সৈকত খান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।আগামীতে ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে পুনার্ঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠিাতা সভাপতি আব্দুস সালাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা লাঠি বাশিঁ সমিতির

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২১

নাটোর প্রতিনিধিঃ
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আবারো ঐক্যবদ্ধ হতে চায় নাটোরের লাঠি বাশিঁ সমিতি। ২২ বছর আগে ১২ নভেম্বর কেন্দ্রিয় সন্ত্রাস চাঁদাবাজ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি নামে জন্ম নেওয়া আলোচিত সংগঠন লাঠিবাশি সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এই ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) রাতে নাটোর শহরের লালবাজার স্বর্নপট্টি এলাকায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কাযার্লয়ে লাঠিবাঁশি সমিতির ব্যানারে ২৫ পাউন্ডের কেক কেটে সংগঠনের ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।
লাঠিবাঁশি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক.মনিমুল হক, মফিউর রহমান দুদু, গিয়াস উদ্দীন পাঠান, সৈকত চৌধুরী, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। বিভিন্ন বক্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, সন্ত্রাস ও চাদাবাজ বিরোধী লাঠিবাঁশি সমিতির মত সংগঠন বর্তমানেও খুবই প্রয়োজন। সন্ত্রাসের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ এবং সামাজিক আন্দোলনে ২২ বছর আগের লাঠি বাঁশি সমিতির প্রয়োজন রয়েছে। তারা বলেন ১৯৯৯ সালের ১২ নভেম্বর এই লাঠিবাঁশি সমিতির জন্ম হয়। সেসময়ে নাটোর ছিল সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের স্বর্গ রাজ্য ছিল। ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন। গড়ে তোলেন কেন্দ্রিয় সন্ত্রাস চাঁদাবাজ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি। যা পরবর্তীতে লাঠিবাঁশি সমিতি নামে পরিচিতি লাভ করে। ব্যবসায়ীরা হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি বাজিয়ে ঐকবদ্ধ্য হয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এই সংগঠনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় সামাজিক আন্দোলন। কিন্তু ওই সময়ের রাজনৈতিক ও স্বাথান্র্বেষী মহলের ঈর্শ্বায় পরিনত হয় সংগঠনটি। ২০০০ সালের ৬ মে সন্ত্রাসীরা স্বয়ংক্রিয়
অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লাঠি-বাঁশি সমিরি স্টেশন বাজার কার্যালয়ে হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মোহন (১৪) নামে কিশোর দোকান কর্মচারী নিহত হয়। ব্যবসায়ীরা সন্ত্রাসীদের করতে গেলে শতাধিক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। মোহনের মৃত্যু সহ ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর নাটোরবাসী ফুঁসে ওঠে। ব্যবসায়ীরা পিছু না হটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। সেসময় সারাদেশের পাশিপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম্যে নাটোরের সাধারণ ব্যবসায়ীদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এই আন্দালন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
দীর্ঘ ২২ বছর পর ২৩ বছরে পদার্পন ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাঠি বাঁশি সমিতির কার্যক্রম আবারো নুতন আঙ্গিকে শুরু করার তাগিদ অনুভব করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার লক্ষে ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সর্বসম্মতক্রমে ব্যবসায়ী সৈকত খান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।আগামীতে ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে পুনার্ঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠিাতা সভাপতি আব্দুস সালাম।