রামেক হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে মারধর; দুই আনসারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ!
- আপডেট সময় : ০৩:২০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এক রোগীর স্বজন। বৃহস্পতিবার রাত নয়টার সময় নগরের রাজপাড়া থানায় এ অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী নগরের চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। তার ৯ মাস বয়সী সন্তান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য হলেন সবুজ (৩২) ও নুর আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি ডায়রিয়া ও ঠান্ডার কারণে ৯ মাসের শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করান বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় ওই শিশুর জন্য মামুন ওষুধ নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে গেলে তিনি আনসার সদস্যদের বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় তাঁর কাছে প্রবেশ কার্ড ছিল না। তিনি আনসার সদস্যের কাছে বলেন, তাড়াহুড়োর জন্য ভুলে প্রবেশ পাস কার্ড রেখে এসেছেন। তবে প্রবেশ কার্ড ছাড়া আনসার সদস্য তাকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন না। তখন একটু জোর করলে তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে হাতের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন সবুজ, নুর আলমসহ কয়েকজন আনসার সদস্য। এ ঘটনা হাসপাতালের পরিচালককে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে তার অভিযোগ।
পরে আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি এ কারণে ওই দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতালে প্রবেশের একটি পাস কার্ড রয়েছে। ওই কার্ড না দেখালে হাসপাতালে প্রবেশের নিয়ম নেই। কিন্তু ওই দিন হয়তো তার কাছে কার্ডটা ছিল না। এ কারণে জেরা করেছিলেন আনসার সদস্যরা। পরে একপর্যায়ে হয়তো তাদের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সবুজ ও নুর আলমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী আরও বলেন, আনসার সদস্যরাও অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা ভুলে যান যে তারা মানুষের সেবা দিচ্ছেন। তাদের বারবার বলা হয়েছে, কারও গায়ে যেন তারা হাত না তোলেন। কারও সাথে উত্তেজিত হয়ে কথা না বলেন। কিন্তু তাঁরা এটা মানছেন না। আবার রোগীর স্বজনেরাও নিয়ম মেনে পাস কার্ড নেন না। কার্ডটা দেখালেই আর কোনো সমস্যা হয় না। তবে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছেন।