ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আদি সেচযন্ত্র জাঁতের ব্যবহার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আদি
সেচযন্ত্র জাঁতের ব্যবহার

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আদি।
সেচযন্ত্র জাঁতের ব্যবহার। রাজশাহীর অঞ্চলের প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষি পেশার উপর নির্ভশীল। এই অঞ্চলের প্রতিটি উপজেলার গ্রামের প্রায় মাঝখান দিয়ে একে বেকে বয়ে চলেছে নদী-নালা ও ডোবা। বর্তমান সময়ে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পুরাতন বা অতি প্রাচীন বেশ কিছু কৃষি কাজের যন্ত্রাংশ। এর মধ্যে ফসলে পানি সেচের আদি যন্ত্র ছিল জাঁত। অঞ্চল ভেদে যার বিভিন্ন নাম থাকলেও রাজশাহীর কৃষকরা একে জাঁত বলে চেনেন। এক কালে এই জাঁতের ব্যবহার ছিল প্রায় প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে। এখন জাঁত চলে গেছে যাদুঘরে। কৃষক হয়ে পড়েছে যন্ত্র নির্ভর।

মেশিন ষ্টাট দিলে অথবা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করলেই ওঠছে পানি। শুধু পানি উত্তোলনই নয়। আধুনিক কৃষি কাজের ষাট সত্তর ভাগ হচ্ছে যন্ত্র দিয়ে । যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষক হয়ে পড়েছে আরাম প্রিয়। তারপরও মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে কৃষি কাজে ব্যবহায্য আদি যন্ত্রপাতির ব্যবহার। কৃষি কাজে আদি দেশীয় এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারী কৃষকরা জানান, অভাবের কারণে নয় শখের বসে এবং আদি ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই তারা এসব যন্ত্রের ব্যবহার চালু রেখেছেন। উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের মাধনগর গ্রামের কৃষক জাফর আলী। বাড়ির সংলগ্ন একটি খালে তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তার জমি সংলগ্ন রয়েছে একটি ছোট ডোবা (জলাশয়)। সেখান থেকে তিনি অনয়াসেই ওই জমিতে একটি ছোট শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে বোরোর আবাদ করতে পারেন। তারপরও শখের বসে ওই ডোবা (জলাশয়) থেকে জাঁত দিয়ে পানি তুলে বোরোর জমিতে সেচ দিয়ে যাচ্ছেন। তার দেখা দেখি আশপাশের আরো কয়েকজন কৃষক একই পদ্ধতিতে বোরোর জমিতে সেচ দেওয়া শুরু করেছেন। কৃষকরা জানান, জমি চাষ ও চারা রোপন সব কিছুই তারা শ্রমিক দিয়ে করেছেন।

এখন সেচের কাজটি তারা মেশিন দিয়ে না করে নিজেরাই জাঁতের মাধ্যমে করছেন। তাদের মতে, জাঁত দিয়ে অতি দ্রুত সেচ দেওয়া যায়। এতে তাদের এক প্রকার ব্যায়াম হচ্ছে। আগে তারা প্রচুর পরিশ্রম করত। সেই তুলনায় এখন তাদের পরিশ্রম অনেক কমে গেছে। এভাবে তারা অলস সময় কাটিয়ে ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার সহ নানান রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মূলত শ্রম বাড়াতে ও কাজের মধ্যে থাকতেই তারা বোরোর জমিতে সেচের জন্য জাঁতের ব্যবহার ধরে রেখেছেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বাংলার কৃষির আদি ঐতিহ্য অনেক কৃষক এখনও শখের বসে কিছু যন্ত্র ধরে রেখেছেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে এসব আদি যন্ত্র একটি শিক্ষনীয় বিষয়। শখের বসে এসব আদি যন্ত্রের ব্যবহার কৃষিতে কৃষকের আগ্রহ ও ভালবাসার বহি:প্রকাশ। শুধু এসব আদি যন্ত্রপাতি নয় কৃষক এখন বিষমুক্ত বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে বিভিন্ন দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। যা মানব স্বাস্থ্য, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আদি সেচযন্ত্র জাঁতের ব্যবহার

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২

রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আদি
সেচযন্ত্র জাঁতের ব্যবহার

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আদি।
সেচযন্ত্র জাঁতের ব্যবহার। রাজশাহীর অঞ্চলের প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষি পেশার উপর নির্ভশীল। এই অঞ্চলের প্রতিটি উপজেলার গ্রামের প্রায় মাঝখান দিয়ে একে বেকে বয়ে চলেছে নদী-নালা ও ডোবা। বর্তমান সময়ে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পুরাতন বা অতি প্রাচীন বেশ কিছু কৃষি কাজের যন্ত্রাংশ। এর মধ্যে ফসলে পানি সেচের আদি যন্ত্র ছিল জাঁত। অঞ্চল ভেদে যার বিভিন্ন নাম থাকলেও রাজশাহীর কৃষকরা একে জাঁত বলে চেনেন। এক কালে এই জাঁতের ব্যবহার ছিল প্রায় প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে। এখন জাঁত চলে গেছে যাদুঘরে। কৃষক হয়ে পড়েছে যন্ত্র নির্ভর।

মেশিন ষ্টাট দিলে অথবা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করলেই ওঠছে পানি। শুধু পানি উত্তোলনই নয়। আধুনিক কৃষি কাজের ষাট সত্তর ভাগ হচ্ছে যন্ত্র দিয়ে । যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষক হয়ে পড়েছে আরাম প্রিয়। তারপরও মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে কৃষি কাজে ব্যবহায্য আদি যন্ত্রপাতির ব্যবহার। কৃষি কাজে আদি দেশীয় এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারী কৃষকরা জানান, অভাবের কারণে নয় শখের বসে এবং আদি ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই তারা এসব যন্ত্রের ব্যবহার চালু রেখেছেন। উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের মাধনগর গ্রামের কৃষক জাফর আলী। বাড়ির সংলগ্ন একটি খালে তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তার জমি সংলগ্ন রয়েছে একটি ছোট ডোবা (জলাশয়)। সেখান থেকে তিনি অনয়াসেই ওই জমিতে একটি ছোট শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে বোরোর আবাদ করতে পারেন। তারপরও শখের বসে ওই ডোবা (জলাশয়) থেকে জাঁত দিয়ে পানি তুলে বোরোর জমিতে সেচ দিয়ে যাচ্ছেন। তার দেখা দেখি আশপাশের আরো কয়েকজন কৃষক একই পদ্ধতিতে বোরোর জমিতে সেচ দেওয়া শুরু করেছেন। কৃষকরা জানান, জমি চাষ ও চারা রোপন সব কিছুই তারা শ্রমিক দিয়ে করেছেন।

এখন সেচের কাজটি তারা মেশিন দিয়ে না করে নিজেরাই জাঁতের মাধ্যমে করছেন। তাদের মতে, জাঁত দিয়ে অতি দ্রুত সেচ দেওয়া যায়। এতে তাদের এক প্রকার ব্যায়াম হচ্ছে। আগে তারা প্রচুর পরিশ্রম করত। সেই তুলনায় এখন তাদের পরিশ্রম অনেক কমে গেছে। এভাবে তারা অলস সময় কাটিয়ে ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার সহ নানান রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মূলত শ্রম বাড়াতে ও কাজের মধ্যে থাকতেই তারা বোরোর জমিতে সেচের জন্য জাঁতের ব্যবহার ধরে রেখেছেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বাংলার কৃষির আদি ঐতিহ্য অনেক কৃষক এখনও শখের বসে কিছু যন্ত্র ধরে রেখেছেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে এসব আদি যন্ত্র একটি শিক্ষনীয় বিষয়। শখের বসে এসব আদি যন্ত্রের ব্যবহার কৃষিতে কৃষকের আগ্রহ ও ভালবাসার বহি:প্রকাশ। শুধু এসব আদি যন্ত্রপাতি নয় কৃষক এখন বিষমুক্ত বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে বিভিন্ন দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। যা মানব স্বাস্থ্য, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য।