ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রাজশাহীতে ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ ২০২২ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীতে ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। রাজশাহীতে গত বছরের তুলনায় ১১৫ হেক্টর কম জমিতে চাষ হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের। এবছর ৩৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে।রাজশাহীতে ব্যাণিজ্যক ভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু ২০২১ সাল থেকে। গত বছর সূূর্যমুখি চাষের জন্য কৃষকদের প্রণোদনা দেয় সরকার। তাতে করে রাজশাহী জেলায় ১৫৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়েছিল। ২০২২ সালে এবছর কৃষকদের প্রণোদনা দেয়নি সরকার। তাই সূর্যমুখির চাষ কমেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের।
কৃষকরা বলছেন- সূর্যমুখি ফুল চাষের ভালো-মন্দ এখনও বুঝে উঠতে পারেনি কৃষক। গত বছর বিলম্বে বীজ পেয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে ট্রেনিংয়ে ঠিকঠাক শিখানো হয়নি চাষিদের। ফলে সূর্যমুখীর চাষের বিষয়টি চাষীদের কাছে তেমন পরিস্কার না। তাই এ বছর কমেছে সূর্যমুখীর চাষ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন- গত বছর সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি ভাবে প্রণোদনা হিসেবে সার, বীজ দেওয়া হয়েছিল। তাই অনেক কৃষক এই ফসলটি চাষ করেছিলেন। এবছর রাজশাহী জেলায় ৩৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। গত বছের তুলনায় তিন ভাগের একভাগের কম জমিতে চাষ হয়েছে সূর্যমুখীর। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- সূর্যমুখি চাষের শুরু ২০২১ সালে বাগমারায় ৬০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়। কিন্তু এবছর ২০২২ সালে চাষ হয়েছে মাত্র ৫ হেক্টর জমিতে। ৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়নি সূর্যমুখির। কৃষকরা অন্য ফসল চাষ করেছেন ওই সকল জমিতে।

বাগমারা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘সূর্যমুখী থেকে তেল হয়, সরিষা থেকেও তেল হয়। এবছর সরিষার বেশি চাষ হয়েছে বাগমারায়। এই উপজেলায় ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এছাড়া এবছর সূর্যমুখী চাষে প্রণোদনা না পাওয়ায় চাষিরা সূর্যমুখী কম চাষ কম করেছেন। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে- ২০২০-২১ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৫৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে বাগমারায় সবচেয়ে বেশি এই ফসলের চাষ হয়েছিল।

এই উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়। এছাড়া পবায় ২৪ হেক্টর, তানোরে ১৪ হেক্টর, মোহনপুরে ৫ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ৩০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ২ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৩ হেক্টর, চারঘাটে ৬ হেক্টর ও বাঘায় ১০ হেক্টর জমিতে এই সূর্যমুখীর চাষ হয়। চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে জেলায় ৩৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।
এবছর উপজেলার গোদাগাড়ীতে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। এই উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়েছে। এছাড়া উপজেলাগুলোর মধ্যে পবায় ৫ হেক্টর, তানোরে ২ হেক্টর, মোহনপুরে ৫ হেক্টর, বাগমারায় ৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৫ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৩ হেক্টর, চারঘাটে ২ হেক্টর ও বাঘায় ৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

দুর্গাপুরের চাষি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘ইচ্ছে ছিল ভুট্টা চাষের। কৃষি অফিসে গেলে- তারা সূর্যমুখী চাষের পরামর্শ দিল। তাদের পরামর্শে চাষ করি। এই সূর্যমুখি ২৫ বছর আগে জমিতে চাষ করেছিলাম। তার পরে বিভিন্ন কারণে আর চাষ করা হয়নি।

তিনি বলেন, এবছর তিন বিঘা জমিতে এই সূর্যমুখির চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে অফিসাররা দেখে গেছেন, তারা বলেছেন ফলন ভালো হবে। কিন্তু বাতাসে অনেক গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।থ মোহনপুরের এক কৃষক জানান, গত বছর সূর্যমুখির চাষ করেছিলাম। কৃষি অফিস সার, বীজ দিয়েছিল প্রণোদনা হিসেবে। কিন্তু এই বছর দেয়নি। তাই আমিসহ অনেক কৃষক সূর্যমুখীর চাষ করেনি।

গত বছরের মতো এবছর কৃষকদের সাথে কৃষি অফিসের যোগাযোগ ও প্রণোদনা চালু থাকলে অনেকেই নতুন করে এই ফসলের চাষ করতো।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছা. উম্মে ছালমা জানান, সূর্যমুখীর তেল ও বীজের উপকারিতা রয়েছে। সূর্যমুখীর ক্ষুদ্র বীজগুলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উপাদান। এছাড়া ভিটামিন ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়াম এর মত খনিজ উপাদান রয়েছে। তিনি বলেন, সূর্যমুখির তেল খুব ভালো।

সূর্যমুখি ফসল জমিতে বেশি দিন থাকে। তবে উৎপাদনের দিক থেকে সরিষার চেয়ে সূর্যমুখিতে বেশি। এক বিঘা জমিতে সরিষা ফলন ভাল হলে ৬ মণ হয়। আর সূর্যমুখি প্রায় ১০ মণ। সরিষা জমিতে থাকে ৮৫ দিন ও সূর্যমুখি থাকে ১২০ দিন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) তৌফিকুর রহমান জানায়, এই মৌসুমে সূর্যমুখীর চাষ কম হয়েছে। কারণ চাষীরা প্রণোদনা পায়নি। তবে তুলনামূলক ভালো চাষ হয়েছে। আগামি বছর এর চাষ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

আপডেট সময় : ০৩:০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ ২০২২

রাজশাহীতে ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীতে ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। রাজশাহীতে গত বছরের তুলনায় ১১৫ হেক্টর কম জমিতে চাষ হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের। এবছর ৩৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে।রাজশাহীতে ব্যাণিজ্যক ভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু ২০২১ সাল থেকে। গত বছর সূূর্যমুখি চাষের জন্য কৃষকদের প্রণোদনা দেয় সরকার। তাতে করে রাজশাহী জেলায় ১৫৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়েছিল। ২০২২ সালে এবছর কৃষকদের প্রণোদনা দেয়নি সরকার। তাই সূর্যমুখির চাষ কমেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের।
কৃষকরা বলছেন- সূর্যমুখি ফুল চাষের ভালো-মন্দ এখনও বুঝে উঠতে পারেনি কৃষক। গত বছর বিলম্বে বীজ পেয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে ট্রেনিংয়ে ঠিকঠাক শিখানো হয়নি চাষিদের। ফলে সূর্যমুখীর চাষের বিষয়টি চাষীদের কাছে তেমন পরিস্কার না। তাই এ বছর কমেছে সূর্যমুখীর চাষ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন- গত বছর সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি ভাবে প্রণোদনা হিসেবে সার, বীজ দেওয়া হয়েছিল। তাই অনেক কৃষক এই ফসলটি চাষ করেছিলেন। এবছর রাজশাহী জেলায় ৩৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ১১৫ হেক্টর কম জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। গত বছের তুলনায় তিন ভাগের একভাগের কম জমিতে চাষ হয়েছে সূর্যমুখীর। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- সূর্যমুখি চাষের শুরু ২০২১ সালে বাগমারায় ৬০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়। কিন্তু এবছর ২০২২ সালে চাষ হয়েছে মাত্র ৫ হেক্টর জমিতে। ৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়নি সূর্যমুখির। কৃষকরা অন্য ফসল চাষ করেছেন ওই সকল জমিতে।

বাগমারা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘সূর্যমুখী থেকে তেল হয়, সরিষা থেকেও তেল হয়। এবছর সরিষার বেশি চাষ হয়েছে বাগমারায়। এই উপজেলায় ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এছাড়া এবছর সূর্যমুখী চাষে প্রণোদনা না পাওয়ায় চাষিরা সূর্যমুখী কম চাষ কম করেছেন। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে- ২০২০-২১ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৫৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে বাগমারায় সবচেয়ে বেশি এই ফসলের চাষ হয়েছিল।

এই উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়। এছাড়া পবায় ২৪ হেক্টর, তানোরে ১৪ হেক্টর, মোহনপুরে ৫ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ৩০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ২ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৩ হেক্টর, চারঘাটে ৬ হেক্টর ও বাঘায় ১০ হেক্টর জমিতে এই সূর্যমুখীর চাষ হয়। চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে জেলায় ৩৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।
এবছর উপজেলার গোদাগাড়ীতে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। এই উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির চাষ হয়েছে। এছাড়া উপজেলাগুলোর মধ্যে পবায় ৫ হেক্টর, তানোরে ২ হেক্টর, মোহনপুরে ৫ হেক্টর, বাগমারায় ৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৫ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৩ হেক্টর, চারঘাটে ২ হেক্টর ও বাঘায় ৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

দুর্গাপুরের চাষি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘ইচ্ছে ছিল ভুট্টা চাষের। কৃষি অফিসে গেলে- তারা সূর্যমুখী চাষের পরামর্শ দিল। তাদের পরামর্শে চাষ করি। এই সূর্যমুখি ২৫ বছর আগে জমিতে চাষ করেছিলাম। তার পরে বিভিন্ন কারণে আর চাষ করা হয়নি।

তিনি বলেন, এবছর তিন বিঘা জমিতে এই সূর্যমুখির চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে অফিসাররা দেখে গেছেন, তারা বলেছেন ফলন ভালো হবে। কিন্তু বাতাসে অনেক গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।থ মোহনপুরের এক কৃষক জানান, গত বছর সূর্যমুখির চাষ করেছিলাম। কৃষি অফিস সার, বীজ দিয়েছিল প্রণোদনা হিসেবে। কিন্তু এই বছর দেয়নি। তাই আমিসহ অনেক কৃষক সূর্যমুখীর চাষ করেনি।

গত বছরের মতো এবছর কৃষকদের সাথে কৃষি অফিসের যোগাযোগ ও প্রণোদনা চালু থাকলে অনেকেই নতুন করে এই ফসলের চাষ করতো।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছা. উম্মে ছালমা জানান, সূর্যমুখীর তেল ও বীজের উপকারিতা রয়েছে। সূর্যমুখীর ক্ষুদ্র বীজগুলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উপাদান। এছাড়া ভিটামিন ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়াম এর মত খনিজ উপাদান রয়েছে। তিনি বলেন, সূর্যমুখির তেল খুব ভালো।

সূর্যমুখি ফসল জমিতে বেশি দিন থাকে। তবে উৎপাদনের দিক থেকে সরিষার চেয়ে সূর্যমুখিতে বেশি। এক বিঘা জমিতে সরিষা ফলন ভাল হলে ৬ মণ হয়। আর সূর্যমুখি প্রায় ১০ মণ। সরিষা জমিতে থাকে ৮৫ দিন ও সূর্যমুখি থাকে ১২০ দিন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) তৌফিকুর রহমান জানায়, এই মৌসুমে সূর্যমুখীর চাষ কম হয়েছে। কারণ চাষীরা প্রণোদনা পায়নি। তবে তুলনামূলক ভালো চাষ হয়েছে। আগামি বছর এর চাষ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা হচ্ছে।