ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ মার্চ ২০২২ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়

কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়। নওগাঁর মহাদেবপুরে মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকরা সরকারি নতুন বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়।

ভোটের সময় সৃষ্ট শত্রুতার জের ধরে একজন ইউপি সদস্য এই গুজব ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরং ১২০ বছরের পুরনো এই মাদ্রাসাটি এ পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনই অনুদান না পেয়ে শিক্ষক কর্মচারিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তার উপর তাদের উপর গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর দাখিল মাদ্রাসায় গেলে সহকারি সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুর রউফ জানান, গত ১ মার্চ দুপুরে গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকরা বই বিতরণ না করে খোলা বাজারে বিক্রি করার অসৎ উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদে রাখা হয়েছে।

ইউএনও’র নির্দেশে বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও একাডেমিক সুপারভাইজার মাদ্রাসা পরিদর্শন করে বইয়ের স্টক সঠিক পান। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পরদিন খবর বের হয় যে, বইগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে করোনা কালিন মাদ্রাসা ছুটি থাকায় বইগুলো বিতরণ করা যায়নি। আর টয়লেটটি মাদ্রাসার বাইরে নয়, বরং সেটি অফিস ঘরের ভিতরেই ঘর সংলগ্ন। অফিস ঘরের টিনের ছাউনির নিচে টয়লেটের উপর বাঁশের মাচান ও মাটি দিয়ে জলছাদ বানানো হয়েছে। স্থান সংকুলানের অভাবে তার উপর বইগুলো রাখা হয়েছিল।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, বইগুলো উদ্ধার করা হয়নি। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। কারণ কোন কারণে এবছরের বই বিতরণ করা না গেলে বা বই বেঁচে গেলে সেগুলো অফিসে ফেরৎ দিতে হয়না। সেগুলো পরের বছর বিতরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই রাখার বিধান রয়েছে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলামও একই কথা জানান। তিনি জানান, এবিষয়ে প্রকাশিক খবর সঠিক নয়। অসৎ উদ্দেশ্যে টয়লেটের ছাদে বই রাখার বিষয়টিও সঠিক নয়।

মাদ্রাসার সহকারি সুপার জানান, গত ইউপি নির্বাচনের সময় সরকারি দলের একজন মেম্বার প্রার্থী আব্দুস সাত্তার মাদ্রাসার সামনে তার নির্বাচনী অফিস করেন। মাদ্রাসার নৈশ প্রহরি এতে বাধা দিলেও তিনি তা মানেন নি। ভোটের আগে তার অফিসটি কে বা কারা ভাংচুর করলে মেম্বার প্রার্থী এ ব্যাপারে নৈশ প্রহরির ছেলেকে দোষারুপ করেন। এরই জের ধরে তিনি এই মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। মেম্বার নির্বাচিত হবার পর তিনি মাদ্রাসার গাছ কাটাতেও বাধা দেন।

জানতে চাইলে মেম্বার আব্দুস সাত্তার বলেন, ২০২২ সালের বই বিতরণে আইনে দোষ না হলে তার কোন আপত্তি নাই। নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের বিষয় তিনি মনে রাখেননি বলেও জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়

আপডেট সময় : ১২:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ মার্চ ২০২২

মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়

কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়। নওগাঁর মহাদেবপুরে মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদ থেকে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকরা সরকারি নতুন বই উদ্ধারের ঘটনা সঠিক নয়।

ভোটের সময় সৃষ্ট শত্রুতার জের ধরে একজন ইউপি সদস্য এই গুজব ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরং ১২০ বছরের পুরনো এই মাদ্রাসাটি এ পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনই অনুদান না পেয়ে শিক্ষক কর্মচারিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তার উপর তাদের উপর গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর দাখিল মাদ্রাসায় গেলে সহকারি সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুর রউফ জানান, গত ১ মার্চ দুপুরে গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকরা বই বিতরণ না করে খোলা বাজারে বিক্রি করার অসৎ উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার টয়লেটের ছাদে রাখা হয়েছে।

ইউএনও’র নির্দেশে বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও একাডেমিক সুপারভাইজার মাদ্রাসা পরিদর্শন করে বইয়ের স্টক সঠিক পান। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পরদিন খবর বের হয় যে, বইগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে করোনা কালিন মাদ্রাসা ছুটি থাকায় বইগুলো বিতরণ করা যায়নি। আর টয়লেটটি মাদ্রাসার বাইরে নয়, বরং সেটি অফিস ঘরের ভিতরেই ঘর সংলগ্ন। অফিস ঘরের টিনের ছাউনির নিচে টয়লেটের উপর বাঁশের মাচান ও মাটি দিয়ে জলছাদ বানানো হয়েছে। স্থান সংকুলানের অভাবে তার উপর বইগুলো রাখা হয়েছিল।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, বইগুলো উদ্ধার করা হয়নি। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। কারণ কোন কারণে এবছরের বই বিতরণ করা না গেলে বা বই বেঁচে গেলে সেগুলো অফিসে ফেরৎ দিতে হয়না। সেগুলো পরের বছর বিতরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই রাখার বিধান রয়েছে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলামও একই কথা জানান। তিনি জানান, এবিষয়ে প্রকাশিক খবর সঠিক নয়। অসৎ উদ্দেশ্যে টয়লেটের ছাদে বই রাখার বিষয়টিও সঠিক নয়।

মাদ্রাসার সহকারি সুপার জানান, গত ইউপি নির্বাচনের সময় সরকারি দলের একজন মেম্বার প্রার্থী আব্দুস সাত্তার মাদ্রাসার সামনে তার নির্বাচনী অফিস করেন। মাদ্রাসার নৈশ প্রহরি এতে বাধা দিলেও তিনি তা মানেন নি। ভোটের আগে তার অফিসটি কে বা কারা ভাংচুর করলে মেম্বার প্রার্থী এ ব্যাপারে নৈশ প্রহরির ছেলেকে দোষারুপ করেন। এরই জের ধরে তিনি এই মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। মেম্বার নির্বাচিত হবার পর তিনি মাদ্রাসার গাছ কাটাতেও বাধা দেন।

জানতে চাইলে মেম্বার আব্দুস সাত্তার বলেন, ২০২২ সালের বই বিতরণে আইনে দোষ না হলে তার কোন আপত্তি নাই। নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের বিষয় তিনি মনে রাখেননি বলেও জানান।