ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মহাদেবপুরে ভ্যানচালক মহসীন আলী হত্যারহস্য উদঘাটন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভ্যানচালক মহসীন আলী হত্যারহস্য উদঘাটন করে দুইজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নিহত মহসীন আলী উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের আতুড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। আটকরা হলো রাইগাাঁ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জিয়া (৩৫) ও বগুড়া জেলার সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনীর ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শ্রী প্রদীপ চন্দ্র (৩০)।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে মহসিন ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোনো খোঁজ না পেয়ে পরদিন মহাদেবপুর থানায় তার বোন মর্জিনা বেগম একটি সাধারণ ডায়েরি এন্ট্রি করেন।

২১ জানুয়ারি উপজেলার মহিষবাথান মোড় এলাকায় একটি হলুদ খেতে তার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। এরপর মর্জিনা বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মহাদেবপুর থানা পুলিশ স্থানীয় সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গত বুধবার ২ ফেব্রুয়ারি নিহত মহসীনের বন্ধু সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার কাছ থেকে মহসীনের ব্যবহৃত মোবাইলফোনও উদ্ধার করা হয়।

সে জানায়, মাস দুয়েক আগে সাখাওয়াতের কাছ থেকে মহসীন তিন হাজার টাকা ধার নিয়ে পরে এক হাজার টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু বাকি দুই হাজার টাকা না দেয়ায় তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে এবং মহসীনের ব্যবহৃত চার্জারভ্যান নিয়ে গিয়ে সান্তাহারে বিক্রি করে। তার দেয়া তথ্য মতে সান্তাহার গিয়ে চার্জার ভ্যানটির খন্ড খন্ড অংশ উদ্ধার করা হয়। আলামত নষ্ট করার দায়ে ভাঙ্গারি ব্যাবসায়ী প্রদীপ চন্দ্রকেও আটক করা হয়।থ

মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, এসআই জয় দাস মামলাটি তদন্ত করেন।

বৃহস্পতিবার ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আসামী সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে নওগাঁর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মহাদেবপুরে ভ্যানচালক মহসীন আলী হত্যারহস্য উদঘাটন

আপডেট সময় : ১২:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভ্যানচালক মহসীন আলী হত্যারহস্য উদঘাটন করে দুইজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নিহত মহসীন আলী উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের আতুড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। আটকরা হলো রাইগাাঁ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জিয়া (৩৫) ও বগুড়া জেলার সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনীর ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শ্রী প্রদীপ চন্দ্র (৩০)।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে মহসিন ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোনো খোঁজ না পেয়ে পরদিন মহাদেবপুর থানায় তার বোন মর্জিনা বেগম একটি সাধারণ ডায়েরি এন্ট্রি করেন।

২১ জানুয়ারি উপজেলার মহিষবাথান মোড় এলাকায় একটি হলুদ খেতে তার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। এরপর মর্জিনা বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মহাদেবপুর থানা পুলিশ স্থানীয় সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গত বুধবার ২ ফেব্রুয়ারি নিহত মহসীনের বন্ধু সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার কাছ থেকে মহসীনের ব্যবহৃত মোবাইলফোনও উদ্ধার করা হয়।

সে জানায়, মাস দুয়েক আগে সাখাওয়াতের কাছ থেকে মহসীন তিন হাজার টাকা ধার নিয়ে পরে এক হাজার টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু বাকি দুই হাজার টাকা না দেয়ায় তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে এবং মহসীনের ব্যবহৃত চার্জারভ্যান নিয়ে গিয়ে সান্তাহারে বিক্রি করে। তার দেয়া তথ্য মতে সান্তাহার গিয়ে চার্জার ভ্যানটির খন্ড খন্ড অংশ উদ্ধার করা হয়। আলামত নষ্ট করার দায়ে ভাঙ্গারি ব্যাবসায়ী প্রদীপ চন্দ্রকেও আটক করা হয়।থ

মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, এসআই জয় দাস মামলাটি তদন্ত করেন।

বৃহস্পতিবার ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আসামী সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে নওগাঁর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।