ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বলৎকারের ভয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক ছাত্রের লেখাপড়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২ ২৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বলৎকারের ভয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক ছাত্রের লেখাপড়া

ভোলা প্রতিনিধিঃ
বলৎকারের ভয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক ছাত্রের লেখাপড়া। বলৎকারই এই শিক্ষকের নেশা! ভোলার মনপুরায় একাধিক শিশু ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা ইসমাইল (৩০) নামে কওমি মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ইসমাইল চর ফয়জুদ্দিনের হাজির হাট ইউনিয়নের মজিবুল হক মাতাব্বরের ছেলে এবং মনপুরা হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক।

জানা যায়, হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি ইসমাইল এ পর্যন্ত চার জন ছেলেকে বলৎকার করেন। এর মধ্যে
মাস্টার হাটের মোঃ মহিউদ্দিনের ছেলে মোঃ হাসনাত, সিদ্দিকুরের ছেলে মোঃ মাছুম, চর জহরুদ্দিনের মোঃ তামিম ও ফরহাদ হোসেনের ছেলের আব্দে রাব্বিকে পর্যায়ক্রমে তিনি বলৎকার করেন।

সর্বশেষ আবদুল রাব্বিকে বলাৎকার করার পর হাতে নাতে ধরা পড়ে যাওয়ার পর সেটাকে ধামা চাপা দেওয়ার জন্য তার ছোট বোনকে বিবাহ করেন।

ভুক্তভোগী শিশু হাসনাতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মাস্টার হাট এলাকার ১১ বছর বয়সী ওই শিশু এক বছর ধরে হিফজ শাখায় পড়াশোনা করে আসছে। মাদরাসার আবাসিক ছাত্র হওয়ার সুবাধে শিক্ষক ইসমাইল প্রায়ই তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন (বলাৎকার) করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ছাত্রটি পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে পুনরায় মাদরাসায় দিয়ে যান। ঘটনা জানাজানি হলে মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষকরা তাকে চিল্লায় যাওয়ার জন্য বলেন। তিনি চিল্লায় যাবেন বলে ওয়াদা করলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এরপরও তিনি পর্যায়ক্রমে আরো তিনটি ছেলেকে বলৎকার করেন। তার এ কাজে সহকারি শিক্ষকরা প্রতিবাদ করার কারণে ক্ষমতা বলে মাদ্রাসা থেকে তাদের বিদায় করে দেন।

হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার সভাপতি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বলৎকারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে এলকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বার বার সতর্ক করা হলেও তিনি এ জঘন্য কাজ করেই যাচ্ছেন। তাকে বিয়ে করার পরামর্শ দেয়াও হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের সাথে ঝগড়া হয়।
এই ইসমাইল প্রভাবশালী হিসেবে কেউ মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।

মাওলানা মাকসুদুর রহমান জানান, মাওলানা ইসমাইল দীর্ঘদিন ছাত্রদের সাথে বলৎকার কাজ করে আসছে। বিষয়টা নিয়ে প্রতিবাদ করলে এ পর্যন্ত ১০ জন শিক্ষকে তিনি বিদায় করেন। বিষয়টি মাদ্রসা কমিটিকে জানানো হলে তারা মাওলানা ইসমাইলকে ৩ মাসের মাধ্যে বিয়ে করার ও রাতে তিনি মাদ্রাসায় থাকতে পারবেন না শর্তে আবারো চাকরিতে বহাল রাখেন। কিন্তু ৬ মাস অতিবাহিত হতে না হতেই তিনি তামিম ও আব্দে রাব্বি নামে দুটি ছাত্রের সাথে আবারো অপকর্ম করেন। এ কাজের ভিডিও মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমানের মোবাইলে রেকর্ড করেন এবং কমিটিকে জানান।

এই বলৎকার কারী ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বলৎকারের ভয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক ছাত্রের লেখাপড়া

আপডেট সময় : ০৫:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২

বলৎকারের ভয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক ছাত্রের লেখাপড়া

ভোলা প্রতিনিধিঃ
বলৎকারের ভয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক ছাত্রের লেখাপড়া। বলৎকারই এই শিক্ষকের নেশা! ভোলার মনপুরায় একাধিক শিশু ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা ইসমাইল (৩০) নামে কওমি মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ইসমাইল চর ফয়জুদ্দিনের হাজির হাট ইউনিয়নের মজিবুল হক মাতাব্বরের ছেলে এবং মনপুরা হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক।

জানা যায়, হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি ইসমাইল এ পর্যন্ত চার জন ছেলেকে বলৎকার করেন। এর মধ্যে
মাস্টার হাটের মোঃ মহিউদ্দিনের ছেলে মোঃ হাসনাত, সিদ্দিকুরের ছেলে মোঃ মাছুম, চর জহরুদ্দিনের মোঃ তামিম ও ফরহাদ হোসেনের ছেলের আব্দে রাব্বিকে পর্যায়ক্রমে তিনি বলৎকার করেন।

সর্বশেষ আবদুল রাব্বিকে বলাৎকার করার পর হাতে নাতে ধরা পড়ে যাওয়ার পর সেটাকে ধামা চাপা দেওয়ার জন্য তার ছোট বোনকে বিবাহ করেন।

ভুক্তভোগী শিশু হাসনাতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মাস্টার হাট এলাকার ১১ বছর বয়সী ওই শিশু এক বছর ধরে হিফজ শাখায় পড়াশোনা করে আসছে। মাদরাসার আবাসিক ছাত্র হওয়ার সুবাধে শিক্ষক ইসমাইল প্রায়ই তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন (বলাৎকার) করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ছাত্রটি পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে পুনরায় মাদরাসায় দিয়ে যান। ঘটনা জানাজানি হলে মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষকরা তাকে চিল্লায় যাওয়ার জন্য বলেন। তিনি চিল্লায় যাবেন বলে ওয়াদা করলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এরপরও তিনি পর্যায়ক্রমে আরো তিনটি ছেলেকে বলৎকার করেন। তার এ কাজে সহকারি শিক্ষকরা প্রতিবাদ করার কারণে ক্ষমতা বলে মাদ্রাসা থেকে তাদের বিদায় করে দেন।

হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার সভাপতি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বলৎকারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে এলকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বার বার সতর্ক করা হলেও তিনি এ জঘন্য কাজ করেই যাচ্ছেন। তাকে বিয়ে করার পরামর্শ দেয়াও হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের সাথে ঝগড়া হয়।
এই ইসমাইল প্রভাবশালী হিসেবে কেউ মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।

মাওলানা মাকসুদুর রহমান জানান, মাওলানা ইসমাইল দীর্ঘদিন ছাত্রদের সাথে বলৎকার কাজ করে আসছে। বিষয়টা নিয়ে প্রতিবাদ করলে এ পর্যন্ত ১০ জন শিক্ষকে তিনি বিদায় করেন। বিষয়টি মাদ্রসা কমিটিকে জানানো হলে তারা মাওলানা ইসমাইলকে ৩ মাসের মাধ্যে বিয়ে করার ও রাতে তিনি মাদ্রাসায় থাকতে পারবেন না শর্তে আবারো চাকরিতে বহাল রাখেন। কিন্তু ৬ মাস অতিবাহিত হতে না হতেই তিনি তামিম ও আব্দে রাব্বি নামে দুটি ছাত্রের সাথে আবারো অপকর্ম করেন। এ কাজের ভিডিও মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমানের মোবাইলে রেকর্ড করেন এবং কমিটিকে জানান।

এই বলৎকার কারী ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।