ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে চোর সন্দেহে আটক যুবক আত্মহত্যা করেছে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২২ ১৩ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে যুবকের আত্মহত্যা

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ে চোর সন্দেহে আটক যুবক আত্মহত্যা করেছে!

উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে চোর সন্দেহে আটক যুবক আত্মহত্যা করেছে! পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদ চোর সন্দেহে আটক হেফাজতে থাকা সুজন (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলা একটি কক্ষে এই ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
নিহত সুজন গোয়াল পাড়া এলাকার মৃত কছিমদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মসজিদের মাইকের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে সুজন তার পরিবারসহ এলাকার লোকজন চেয়ারম্যানের বাসায় যায়। সেখানে জনসম্মুখে ব্যাটারি চুরি করে সুজন স্বীকারোক্তিতে জাহেদুল নামে এক ব্যক্তি কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করে।
এর আগে এলাকায় তার বিরুদ্ধে কয়েকবার চুরির অভিযোগ ছিল। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৩ টায় পরিষদের হেফাজতে নিয়ে যায়। দুই জনকে পৃথক পৃথক রুমে আটক করে রাখা হয় এসময় দুইজন গ্রাম পুলিশ পাহারায় দায়িত্ব দেন চেয়ারম্যান। সকালে একজন গ্রাম পুলিশ বাজারে নাস্তা আনতে যায় অন্য জন মাঠে বের হন। কিছুক্ষণ পরে তারা উপরে গিয়ে দেখে ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুঁলছে সুজন। পরে পরিষদের চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্যসহ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ সময় হেফাজতে থাকা জাহিদুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে জগদল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইমরান খান বলেন, রাতে আটকের পর তারা মসজিদের চুরি হওয়া ব্যাটারি সকালে উদ্ধার করে দিতে চেয়েছিল। তারা মসজিদের লোকজনের কাছে ক্ষমাও চায় এবং স্থানীয়রা তাদের মাফ করে দেয়। এছাড়া মৃত সুজন আমার প্রতিবেশী এবং আমার জমিতেই সে পরিবার নিয়ে বসবাস করে। তিনি আরও বলেন, চুরি এবং মাদকের বিষয় তাকে একাধিকবার ধরে বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সকালে ব্যাটারি উদ্ধার শেষে সালিশের পর তাদের পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মূলত চুরি হওয়া ব্যাটারি সকালে উদ্ধারের জন্যই তাদের রাতে আটকে রাখা হয়। কিন্তু রাতেই সুজন তার কাছে থাকা গামছা জাতীয় কাপড় দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ওই ঘরের সামনে মাদক গ্রহণের একটি সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত আরেক ছিঁচকে চোরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়ে চোর সন্দেহে আটক যুবক আত্মহত্যা করেছে!

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২২

পঞ্চগড়ে চোর সন্দেহে আটক যুবক আত্মহত্যা করেছে!

উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে চোর সন্দেহে আটক যুবক আত্মহত্যা করেছে! পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদ চোর সন্দেহে আটক হেফাজতে থাকা সুজন (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলা একটি কক্ষে এই ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
নিহত সুজন গোয়াল পাড়া এলাকার মৃত কছিমদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মসজিদের মাইকের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে সুজন তার পরিবারসহ এলাকার লোকজন চেয়ারম্যানের বাসায় যায়। সেখানে জনসম্মুখে ব্যাটারি চুরি করে সুজন স্বীকারোক্তিতে জাহেদুল নামে এক ব্যক্তি কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করে।
এর আগে এলাকায় তার বিরুদ্ধে কয়েকবার চুরির অভিযোগ ছিল। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৩ টায় পরিষদের হেফাজতে নিয়ে যায়। দুই জনকে পৃথক পৃথক রুমে আটক করে রাখা হয় এসময় দুইজন গ্রাম পুলিশ পাহারায় দায়িত্ব দেন চেয়ারম্যান। সকালে একজন গ্রাম পুলিশ বাজারে নাস্তা আনতে যায় অন্য জন মাঠে বের হন। কিছুক্ষণ পরে তারা উপরে গিয়ে দেখে ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুঁলছে সুজন। পরে পরিষদের চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্যসহ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ সময় হেফাজতে থাকা জাহিদুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে জগদল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইমরান খান বলেন, রাতে আটকের পর তারা মসজিদের চুরি হওয়া ব্যাটারি সকালে উদ্ধার করে দিতে চেয়েছিল। তারা মসজিদের লোকজনের কাছে ক্ষমাও চায় এবং স্থানীয়রা তাদের মাফ করে দেয়। এছাড়া মৃত সুজন আমার প্রতিবেশী এবং আমার জমিতেই সে পরিবার নিয়ে বসবাস করে। তিনি আরও বলেন, চুরি এবং মাদকের বিষয় তাকে একাধিকবার ধরে বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সকালে ব্যাটারি উদ্ধার শেষে সালিশের পর তাদের পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মূলত চুরি হওয়া ব্যাটারি সকালে উদ্ধারের জন্যই তাদের রাতে আটকে রাখা হয়। কিন্তু রাতেই সুজন তার কাছে থাকা গামছা জাতীয় কাপড় দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ওই ঘরের সামনে মাদক গ্রহণের একটি সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত আরেক ছিঁচকে চোরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।