ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘদিন ঘুরেও সেবা না পেয়ে ডিসি অফিসের হেল্পডেস্ক গুড়িয়ে দিলেন শুসান্ত!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

Collected

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন ঘুরেও সেবা না পেয়ে ডিসি অফিসের হেল্পডেস্ক গুড়িয়ে দিলেন শুসান্ত!

নাজমুল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বছরের পর বছর ঘুরেও কোন সহযোগিতা না পেয়ে অনেকটা ক্ষুদ্ধ হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হেল্পডেস্ক ভাঙচুর করেছে। সোমবার (১৩ মে) শুশান্ত কুমার দাস (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ এ ঘটনা ঘটায়। তবে এ ঘটনার পর হেল্পডেস্কের দায়িত্বরা কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। অভিযুক্ত ব্যাক্তি শুশান্ত কুমার দাস সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর এলাকার হরিহরপুর গ্রামের মৃত প্রবীর চন্দ্র দাসের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ শুশান্ত দাস জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হেল্প ডেস্ক শাখার গ্লাস ভাঙচুর করতে থাকেন। এসময় তার মুখে শোনা গেছে হেল্পডেস্ক থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। কেউ আমার কথা শুনে না, উত্তর দেয় না। বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। তার পরেও কোন সমাধান নাই। সেই হেল্পডেস্ক থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো। আমি রাখব না এই হেল্পডেস্ক। এমন কথা শেষ হতে না হতেই ব্যাগ থেকে লোহার রড বের করে গ্লাস ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এমন ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পারিবারের স্বজনরা জানান,২০১৩ সালে থেকে শুশান্ত কুমার দাস জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচ তলায় হেল্পডেস্ক শাখায় সহযোগীতা চান। কিন্তু আজ-কাল বলে সময় ক্ষেপন করেন হেল্পডেস্কের দায়িত্বরতরা। এভাবে তিনি ১১ বছর ধরে হেল্প ডেস্কের বারান্দায় ঘুরাঘুরি করছেন। রাগে ক্ষোভে এমনটা করেছেন বলে ধারণা তার পরিবারের লোকজনের। এছাড়া তিনি কিছুটা মানুষিক ভারসাম্যহীন বলেও জানান তারা।

এ ঘটনার পর ডিসি অফিসের হেল্পডেস্ক ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে নেটিজনরা বিভিন্ন মন্তব্যের ঝড় তুলেন।
তারা লিখেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যারা চাকরি করে। তারা নিজেদের জমিদার মনে করেন। কোন পরামর্শ বা সহযোগিতার জন্য গেলে তা সহজেই মিলেনা। কোন কিছু বললে সঠিক উত্তর দেয় না। এখন ব্যস্ত আছি বলে তাড়িয়ে দেয়। ডিসি মহোদয়ের কাছে তো দূরে থাক বারান্দায় উঠতে দেয় না কর্মচারীরা।
আরেকজন লিখেন, নিশ্চয়ই ওই ব্যক্তি ডিসি অফিসের কোন ব্যক্তি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বা কোন সহযোগিতা পাইনি। তাই হয়তো রাগে ক্ষোভে তিনি ভাঙচুর করেছেন। এমন নানা মন্তব্য করেন নেটিজনেরা।
এবিষয়ে ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবি.এম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত পরে বলা যাবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, এটি অত্যন্ত খারাপ একটি কাজ হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে কেন ভাঙচুর করেছে তা এখনোই বলা যাবে না। তদন্ত করে পরে জানানো হবে।
এর আগে গত বছরের ৮ জুলাই নাসির উদ্দীন ২৫ নামে এক যুবক জেলা প্রশাসকের প্রবেশদ্বারের কেঁচিগেটের তালা ভেঙে বেলচা দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ডিসির কক্ষসহ অফিসের ১০টি রুমের ৩১টি দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এসময় তাকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন পুলিশের এক কর্মকর্তা।
গেল দু বছরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুই বার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। যা অনাকাঙ্ক্ষিতের কথা জানিয়ে নিরাপত্তার অভাবকে দায়ি করছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দীর্ঘদিন ঘুরেও সেবা না পেয়ে ডিসি অফিসের হেল্পডেস্ক গুড়িয়ে দিলেন শুসান্ত!

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

দীর্ঘদিন ঘুরেও সেবা না পেয়ে ডিসি অফিসের হেল্পডেস্ক গুড়িয়ে দিলেন শুসান্ত!

নাজমুল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বছরের পর বছর ঘুরেও কোন সহযোগিতা না পেয়ে অনেকটা ক্ষুদ্ধ হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হেল্পডেস্ক ভাঙচুর করেছে। সোমবার (১৩ মে) শুশান্ত কুমার দাস (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ এ ঘটনা ঘটায়। তবে এ ঘটনার পর হেল্পডেস্কের দায়িত্বরা কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। অভিযুক্ত ব্যাক্তি শুশান্ত কুমার দাস সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর এলাকার হরিহরপুর গ্রামের মৃত প্রবীর চন্দ্র দাসের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ শুশান্ত দাস জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হেল্প ডেস্ক শাখার গ্লাস ভাঙচুর করতে থাকেন। এসময় তার মুখে শোনা গেছে হেল্পডেস্ক থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। কেউ আমার কথা শুনে না, উত্তর দেয় না। বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। তার পরেও কোন সমাধান নাই। সেই হেল্পডেস্ক থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো। আমি রাখব না এই হেল্পডেস্ক। এমন কথা শেষ হতে না হতেই ব্যাগ থেকে লোহার রড বের করে গ্লাস ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এমন ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পারিবারের স্বজনরা জানান,২০১৩ সালে থেকে শুশান্ত কুমার দাস জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচ তলায় হেল্পডেস্ক শাখায় সহযোগীতা চান। কিন্তু আজ-কাল বলে সময় ক্ষেপন করেন হেল্পডেস্কের দায়িত্বরতরা। এভাবে তিনি ১১ বছর ধরে হেল্প ডেস্কের বারান্দায় ঘুরাঘুরি করছেন। রাগে ক্ষোভে এমনটা করেছেন বলে ধারণা তার পরিবারের লোকজনের। এছাড়া তিনি কিছুটা মানুষিক ভারসাম্যহীন বলেও জানান তারা।

এ ঘটনার পর ডিসি অফিসের হেল্পডেস্ক ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে নেটিজনরা বিভিন্ন মন্তব্যের ঝড় তুলেন।
তারা লিখেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যারা চাকরি করে। তারা নিজেদের জমিদার মনে করেন। কোন পরামর্শ বা সহযোগিতার জন্য গেলে তা সহজেই মিলেনা। কোন কিছু বললে সঠিক উত্তর দেয় না। এখন ব্যস্ত আছি বলে তাড়িয়ে দেয়। ডিসি মহোদয়ের কাছে তো দূরে থাক বারান্দায় উঠতে দেয় না কর্মচারীরা।
আরেকজন লিখেন, নিশ্চয়ই ওই ব্যক্তি ডিসি অফিসের কোন ব্যক্তি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বা কোন সহযোগিতা পাইনি। তাই হয়তো রাগে ক্ষোভে তিনি ভাঙচুর করেছেন। এমন নানা মন্তব্য করেন নেটিজনেরা।
এবিষয়ে ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবি.এম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত পরে বলা যাবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, এটি অত্যন্ত খারাপ একটি কাজ হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে কেন ভাঙচুর করেছে তা এখনোই বলা যাবে না। তদন্ত করে পরে জানানো হবে।
এর আগে গত বছরের ৮ জুলাই নাসির উদ্দীন ২৫ নামে এক যুবক জেলা প্রশাসকের প্রবেশদ্বারের কেঁচিগেটের তালা ভেঙে বেলচা দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ডিসির কক্ষসহ অফিসের ১০টি রুমের ৩১টি দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এসময় তাকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন পুলিশের এক কর্মকর্তা।
গেল দু বছরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুই বার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। যা অনাকাঙ্ক্ষিতের কথা জানিয়ে নিরাপত্তার অভাবকে দায়ি করছেন স্থানীয়রা।