ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গুরুদাসপুরে প্রধান শিক্ষকের কব্জায় হাইস্কুল সিন্ডিকেট 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ ২০২২ ২৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুরুদাসপুরে প্রধান শিক্ষকের কব্জায় হাইস্কুল সিন্ডিকেট 

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
গুরুদাসপুরে প্রধান শিক্ষকের কব্জায় হাইস্কুল সিন্ডিকেট। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম বিরুদ্ধে অভিযোগ  করেছেন স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।অতীতেও এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও  অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দিন তার প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মোঃ রফিকুল ইসলাম নামের বয়স্ক এক ব্যাক্তিকে যুবক বানিয়ে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দিয়েছেন, ভুয়া পরিচয় পত্র তৈরী করে।

অনুসন্ধানে জানাযায় মোঃ রফিকুল ইসলামের ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয় পত্র  ‘৭৩৩৪৯৯৯১৫৩’ অনুসারে জন্ম তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৭৫ সাল। সে হিসাবে তার বয়স ৪৬ বছর ৬ মাস কিন্তু  তৈরীকৃত ভুয়া আইডি ২০ জুলাই ১৯৯৭ সাল অনুসারে তার বর্তমান বয়স ২৪ বছর ৪ মাস দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ওই পদে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন। অনুসন্ধানে আরো জানাযায় রফিকুলের বড় ছেলের জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী জন্ম তারিখ ২৪ জুন ২০০৬ সাল মতে তার বর্তমান বয়স প্রায় ১৬ বছর।

ভুয়া পরিচয় পত্রের পরিসংখ্যান মতে বাবা ছেলের চেয়ে ৮ বছরের বড়।এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি কারনে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দীন (নিরাপত্তা কর্মি) রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অংকে টাকা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন।এছারাও তথ্য গোপন করা, স্বজনপ্রীত, জালিয়াতিসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক ফরিদের বিরুদ্ধে। সরোজমিনে একাধিক বার গিয়ে দেখা যায় তিনার অফিস কক্ষ বন্ধ কিন্তু হাজিরা বহিতে স্বাক্ষর রয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মী রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে আমার সংবাদকে বলেন আমি নথি দেখে জন্ম তারিখ বলবো, এখন জানা নেই। পড়ে ফোন রিসিভ করে না এবং বিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকের টের পেয়ে দ্রুত গোপনে বিদ্যালয় ত্যগ করেন। প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন ফোন রিসিভ করেননা এবং বিদ্যালয়েও উপস্থিত থাকেননা, বেশকিছু দিন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম ইসলাম  আমার সংবাদকে বলেন, নৈশ প্রহরী রফিকুলের ছেলে জাকারিয়া শুভ এ স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করে নবম শ্রেণিতে ক্লাশ করছে করছে।রফিকুল সংক্রান্ত এর বেশি তথ্য আমার জানা নাই। বাকি তথ্য হেড স্যারের কাছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, লুৎফর রহমান হিরা আমার সংবাদকে বলেন, নিরাপত্তা কর্মি রফিকুল ইসলামের নিয়োগ বোর্ডে অনেকেই ছিল, যেসকল কাগজ পত্র দেখিয়েছিল তাতে নিয়মের মধ্যে ছিল। যদি প্রতারণা করে বানোয়াট কাগজ পত্র দিয়ে থাকে অবশ্যই শাস্তি হতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নাজিরপুর নিরাপত্তা কর্মি নিয়োগ বেশ কিছু দিন আগের কথা, তখন আমাদের হাতে যেসকল কাগজ পত্র দিয়েছিল ঠিক ছিল। যদি বানোয়াট কাগজ পত্র দিয়ে থাকে অবশ্যই সেটা বড় ধরনের অপরাধ।প্রমাণিত হলে এধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিবে।

নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আখতার হোসন আমার সংবাদকে বলেন, নাজিরপুর স্কুলের জালিয়াতির মাধ্যমে কর্মচারি নিয়োগ প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, ব্যস্ততার কারণে এখনও তদন্ত করতে পারি নাই, খুব শীঘ্রই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গুরুদাসপুরে প্রধান শিক্ষকের কব্জায় হাইস্কুল সিন্ডিকেট 

আপডেট সময় : ০৮:৪১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ ২০২২

গুরুদাসপুরে প্রধান শিক্ষকের কব্জায় হাইস্কুল সিন্ডিকেট 

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
গুরুদাসপুরে প্রধান শিক্ষকের কব্জায় হাইস্কুল সিন্ডিকেট। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম বিরুদ্ধে অভিযোগ  করেছেন স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।অতীতেও এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও  অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দিন তার প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মোঃ রফিকুল ইসলাম নামের বয়স্ক এক ব্যাক্তিকে যুবক বানিয়ে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দিয়েছেন, ভুয়া পরিচয় পত্র তৈরী করে।

অনুসন্ধানে জানাযায় মোঃ রফিকুল ইসলামের ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয় পত্র  ‘৭৩৩৪৯৯৯১৫৩’ অনুসারে জন্ম তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৭৫ সাল। সে হিসাবে তার বয়স ৪৬ বছর ৬ মাস কিন্তু  তৈরীকৃত ভুয়া আইডি ২০ জুলাই ১৯৯৭ সাল অনুসারে তার বর্তমান বয়স ২৪ বছর ৪ মাস দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ওই পদে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন। অনুসন্ধানে আরো জানাযায় রফিকুলের বড় ছেলের জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী জন্ম তারিখ ২৪ জুন ২০০৬ সাল মতে তার বর্তমান বয়স প্রায় ১৬ বছর।

ভুয়া পরিচয় পত্রের পরিসংখ্যান মতে বাবা ছেলের চেয়ে ৮ বছরের বড়।এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি কারনে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দীন (নিরাপত্তা কর্মি) রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অংকে টাকা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন।এছারাও তথ্য গোপন করা, স্বজনপ্রীত, জালিয়াতিসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক ফরিদের বিরুদ্ধে। সরোজমিনে একাধিক বার গিয়ে দেখা যায় তিনার অফিস কক্ষ বন্ধ কিন্তু হাজিরা বহিতে স্বাক্ষর রয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মী রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে আমার সংবাদকে বলেন আমি নথি দেখে জন্ম তারিখ বলবো, এখন জানা নেই। পড়ে ফোন রিসিভ করে না এবং বিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকের টের পেয়ে দ্রুত গোপনে বিদ্যালয় ত্যগ করেন। প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন ফোন রিসিভ করেননা এবং বিদ্যালয়েও উপস্থিত থাকেননা, বেশকিছু দিন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম ইসলাম  আমার সংবাদকে বলেন, নৈশ প্রহরী রফিকুলের ছেলে জাকারিয়া শুভ এ স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করে নবম শ্রেণিতে ক্লাশ করছে করছে।রফিকুল সংক্রান্ত এর বেশি তথ্য আমার জানা নাই। বাকি তথ্য হেড স্যারের কাছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, লুৎফর রহমান হিরা আমার সংবাদকে বলেন, নিরাপত্তা কর্মি রফিকুল ইসলামের নিয়োগ বোর্ডে অনেকেই ছিল, যেসকল কাগজ পত্র দেখিয়েছিল তাতে নিয়মের মধ্যে ছিল। যদি প্রতারণা করে বানোয়াট কাগজ পত্র দিয়ে থাকে অবশ্যই শাস্তি হতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নাজিরপুর নিরাপত্তা কর্মি নিয়োগ বেশ কিছু দিন আগের কথা, তখন আমাদের হাতে যেসকল কাগজ পত্র দিয়েছিল ঠিক ছিল। যদি বানোয়াট কাগজ পত্র দিয়ে থাকে অবশ্যই সেটা বড় ধরনের অপরাধ।প্রমাণিত হলে এধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিবে।

নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আখতার হোসন আমার সংবাদকে বলেন, নাজিরপুর স্কুলের জালিয়াতির মাধ্যমে কর্মচারি নিয়োগ প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, ব্যস্ততার কারণে এখনও তদন্ত করতে পারি নাই, খুব শীঘ্রই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।