ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জমি কেরে নেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০২২ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জমি কেরে নেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জমি কেরে নেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা দেবীপুর ইউনিয়নের রঙ্গিয়ানী এলাকায় হাসিনা বানু নামের এক বিধবা নারীর ২০ শতক জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক চেয়ারম্যান নুর ইসলামের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিধবা হাসিনার স্বামী একহন ভবঘুরে ছিলেন। সবাই তাকে আতিয়া পাগলা নামে চিনতো। আতিয়া জন্মের পর থেকেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রঙ্গিয়ানী বাজারে তার পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করে আসছেন। আতিয়ার পাগলা গত বছর সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। আতিয়া মারা যাওয়ার এক মাস পর হঠাৎ চেয়ারম্যানের নির্দেশে জাহাঙ্গীর ও তার সন্ত্রাসীরা তারা বিধবা স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এই জমি থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা ওই বিধবা মহিলাকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। আর তার দুই ছেলেকে গাছে বেঁধে গলায় ছুড়ি ঠেকিয়ে দিয়ে বলে আজ রাতের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে। তারা দাবি করে এই জমি নাকি আতিয়ার পাগলা চেয়ারম্যানের কাছে বিক্রি করেছে। তাই চেয়ারম্যান জমিটা দখল করে রাতের আধারে সীমানা প্রচীর নির্মাণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ আতিয়া পাগলা সহ তার পরিবারকে এখানে বসবাস করে আসতে দেখেছি। কিভাবে চেয়ারম্যান জমির মালিকানা দাবি করছে আমরা জানিনা। আতিয়া পাগলা যতদিন বেঁচে ছিল ততদিন এসব কথা শোনা যায়নি। সে মারা যাওয়ার এক মাস পর থেকে চেয়ারম্যান গুন্ডাপান্ডানিয়ে রাতের অন্ধকারে তাদের মারধর করে জমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু সমাজে এসব প্রতিবাদ করার মানুষ নেই। সাবেক চেয়ারম্যান আবার আওয়ামী লীগ নেতা। তার প্রভাবে আমরা কোনকিছু বলার সাহস পাইনা। প্রতিবাদ করে কি হবে? আমরা গরীব মানুষ। প্রশাসন ও ক্ষমতাশীনদের কাছে কাছে নিরব?

আতিয়ার পাগলার স্ত্রী বলেন, আমি খুব অসহায়। আমার দুই ছেলেকে তারা অনেক নির্যাতন করেছে। চেয়ারম্যান যদি আমার স্বামীর নিকট জমি কিনেই থাকে তাহলে আমার স্বামী মারা যাওয়ার আগে আসেনি কেন? তারপরেও চেয়ারম্যান শুধু ১২ শতক জমি ক্রয় দেখাচ্ছে কিন্তু তিনি ২০ শতক জমি জবর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সমাজের সবার পায়ে ধরে বলি আমার স্বামীর জমিটুকু উদ্ধার করে দিন। আর আমার দুই সন্তানকে তাদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচান। না হলে তারা মারা যাবে।

সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর ইসলাম বলেন, আমি ২০১০ সালে ওই বিধবা মহিলার জমি ক্রয় করেছি। আমার কাছে কাগজ আছে। রাতের অন্ধকারে মারধর করে জমি দখলের বিষয়টি তিনি এড়িযে যান।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থালে একাধিক অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। পরিবারটিকে আদালতে বিচার চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জমি কেরে নেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০২২

গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জমি কেরে নেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জমি কেরে নেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা দেবীপুর ইউনিয়নের রঙ্গিয়ানী এলাকায় হাসিনা বানু নামের এক বিধবা নারীর ২০ শতক জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক চেয়ারম্যান নুর ইসলামের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিধবা হাসিনার স্বামী একহন ভবঘুরে ছিলেন। সবাই তাকে আতিয়া পাগলা নামে চিনতো। আতিয়া জন্মের পর থেকেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রঙ্গিয়ানী বাজারে তার পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করে আসছেন। আতিয়ার পাগলা গত বছর সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। আতিয়া মারা যাওয়ার এক মাস পর হঠাৎ চেয়ারম্যানের নির্দেশে জাহাঙ্গীর ও তার সন্ত্রাসীরা তারা বিধবা স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এই জমি থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা ওই বিধবা মহিলাকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। আর তার দুই ছেলেকে গাছে বেঁধে গলায় ছুড়ি ঠেকিয়ে দিয়ে বলে আজ রাতের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে। তারা দাবি করে এই জমি নাকি আতিয়ার পাগলা চেয়ারম্যানের কাছে বিক্রি করেছে। তাই চেয়ারম্যান জমিটা দখল করে রাতের আধারে সীমানা প্রচীর নির্মাণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ আতিয়া পাগলা সহ তার পরিবারকে এখানে বসবাস করে আসতে দেখেছি। কিভাবে চেয়ারম্যান জমির মালিকানা দাবি করছে আমরা জানিনা। আতিয়া পাগলা যতদিন বেঁচে ছিল ততদিন এসব কথা শোনা যায়নি। সে মারা যাওয়ার এক মাস পর থেকে চেয়ারম্যান গুন্ডাপান্ডানিয়ে রাতের অন্ধকারে তাদের মারধর করে জমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু সমাজে এসব প্রতিবাদ করার মানুষ নেই। সাবেক চেয়ারম্যান আবার আওয়ামী লীগ নেতা। তার প্রভাবে আমরা কোনকিছু বলার সাহস পাইনা। প্রতিবাদ করে কি হবে? আমরা গরীব মানুষ। প্রশাসন ও ক্ষমতাশীনদের কাছে কাছে নিরব?

আতিয়ার পাগলার স্ত্রী বলেন, আমি খুব অসহায়। আমার দুই ছেলেকে তারা অনেক নির্যাতন করেছে। চেয়ারম্যান যদি আমার স্বামীর নিকট জমি কিনেই থাকে তাহলে আমার স্বামী মারা যাওয়ার আগে আসেনি কেন? তারপরেও চেয়ারম্যান শুধু ১২ শতক জমি ক্রয় দেখাচ্ছে কিন্তু তিনি ২০ শতক জমি জবর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সমাজের সবার পায়ে ধরে বলি আমার স্বামীর জমিটুকু উদ্ধার করে দিন। আর আমার দুই সন্তানকে তাদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচান। না হলে তারা মারা যাবে।

সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর ইসলাম বলেন, আমি ২০১০ সালে ওই বিধবা মহিলার জমি ক্রয় করেছি। আমার কাছে কাগজ আছে। রাতের অন্ধকারে মারধর করে জমি দখলের বিষয়টি তিনি এড়িযে যান।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থালে একাধিক অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। পরিবারটিকে আদালতে বিচার চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।