ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

এটিএম বুথ থেকে অন্যের টাকা তুলে নেওয়ায় যুবকের সাত বছর কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এটিএম বুথ থেকে অন্যের টাকা তুলে নেওয়ায় যুবকের সাত বছর কারাদণ্ড

রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীতে এটিএম বুথে কৌশলে অন্য ব্যক্তির তিন হাজার টাকা তুলে নেওয়ায় হাসিবুর রহমান নামের এক যুবককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিনমাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে আসামিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এ রায় দিয়েছেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবদুস সবুর নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এক গ্রাহক ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, এটিএম বুথে তার ট্রানজাকশন হয়েছে। কিন্তু তিনি টাকা পাননি। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক যুবককে দেখতে পায় যিনি কৌশলে আবদুস সবুরের একাউন্ট থেকে বুথে তিন হাজার টাকা তুলে নেন। কিন্তু তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না।

তবে এ নিয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ডাচ বাংলা ব্যাংকের রাজশাহী শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আবু আলী মোঃ আরিফুর রহমান নগরীর বোয়ালিয়া থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে আসামি হাসিবুর রহমানকে শনাক্ত করে। পরে হাসিবুর নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন।

জবানবন্দীতে হাসিবুর জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে প্রথমে গ্রাহকের মোবাইল এবং পিন নম্বর দিতে হয়। তখন গ্রাহকের মোবাইলে একটি গোপন পিন নম্বর পাঠানো হয়। সেই গোপন নম্বরটি বুথে দিলেই কেবল টাকা ওঠে। গ্রাহক আবদুস সবুর যখন বুথে টাকা তুলছিলেন তখন তিনি তার পাশে আরেকটি বুথে ছিলেন। আবদুস সবুর বুথে যে মোবাইল নম্বর ও পিন দিচ্ছিলেন, তিনিও তা দেখে দেখে বুথে দিয়েছেন। তারপর সবুর বুথে তার মোবাইলে আসা গোপন পিন নম্বরটি দিলেই হাসিবুর যে বুথে ছিলেন সেখানে তিন হাজার টাকা উঠে যায়। অথচ টাকার অংকটি বুথে বসিয়েছিলেন আবদুস সবুর নিজেই। হাসিবুর টাকা পেয়েই বুথ থেকে চলে যান। আর ট্রানজকশন সফল হলেও সবুর টাকা পাননি।

আইনজীবী ইসমত আরা আরও জানান, এ মামলায় আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আসামিকে সাজা দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এটিএম বুথ থেকে অন্যের টাকা তুলে নেওয়ায় যুবকের সাত বছর কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৩:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

এটিএম বুথ থেকে অন্যের টাকা তুলে নেওয়ায় যুবকের সাত বছর কারাদণ্ড

রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীতে এটিএম বুথে কৌশলে অন্য ব্যক্তির তিন হাজার টাকা তুলে নেওয়ায় হাসিবুর রহমান নামের এক যুবককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিনমাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে আসামিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এ রায় দিয়েছেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবদুস সবুর নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এক গ্রাহক ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, এটিএম বুথে তার ট্রানজাকশন হয়েছে। কিন্তু তিনি টাকা পাননি। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক যুবককে দেখতে পায় যিনি কৌশলে আবদুস সবুরের একাউন্ট থেকে বুথে তিন হাজার টাকা তুলে নেন। কিন্তু তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না।

তবে এ নিয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ডাচ বাংলা ব্যাংকের রাজশাহী শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আবু আলী মোঃ আরিফুর রহমান নগরীর বোয়ালিয়া থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে আসামি হাসিবুর রহমানকে শনাক্ত করে। পরে হাসিবুর নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন।

জবানবন্দীতে হাসিবুর জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে প্রথমে গ্রাহকের মোবাইল এবং পিন নম্বর দিতে হয়। তখন গ্রাহকের মোবাইলে একটি গোপন পিন নম্বর পাঠানো হয়। সেই গোপন নম্বরটি বুথে দিলেই কেবল টাকা ওঠে। গ্রাহক আবদুস সবুর যখন বুথে টাকা তুলছিলেন তখন তিনি তার পাশে আরেকটি বুথে ছিলেন। আবদুস সবুর বুথে যে মোবাইল নম্বর ও পিন দিচ্ছিলেন, তিনিও তা দেখে দেখে বুথে দিয়েছেন। তারপর সবুর বুথে তার মোবাইলে আসা গোপন পিন নম্বরটি দিলেই হাসিবুর যে বুথে ছিলেন সেখানে তিন হাজার টাকা উঠে যায়। অথচ টাকার অংকটি বুথে বসিয়েছিলেন আবদুস সবুর নিজেই। হাসিবুর টাকা পেয়েই বুথ থেকে চলে যান। আর ট্রানজকশন সফল হলেও সবুর টাকা পাননি।

আইনজীবী ইসমত আরা আরও জানান, এ মামলায় আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আসামিকে সাজা দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।